
সংবাদদাতা - জাদুকর শ্যামল কুমারঃ জাদুসম্রাট পি. সি. সরকার (সিনিয়র)-এর ১১৩তম জন্মদিন উদযাপন।
২৩ ফেব্রুয়ারি জাদু জগতের এক বিশেষ দিন। এই দিনটি কিংবদন্তি জাদুকর পি. সি. সরকার (সিনিয়র)-এর জন্মদিন। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনটি সারা ভারতবর্ষসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে "জাদুকর দিবস' হিসেবে পালিত হয়। এ বছর কলকাতার বালিগঞ্জে অবস্থিত 'ইন্দ্রজাল ভবন'-এ জাদুসম্রাটের ১১৩তম জন্মদিন যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে উদ্যাপিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাদুসম্রাটের পুত্র ও তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি বিশিষ্ট জাদুকর পি. সি. সরকার (জুনিয়র)। তাঁর সান্নিধ্যে জাদুপ্রেমী ও জাদুশিল্পীরা এই বিশেষ দিনটি স্মরণ করেন গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। ভারতীয় জাদুশিল্পকে বিশ্বমঞ্চে গৌরবের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন পদ্মশ্রী পি. সি. সরকার (সিনিয়র)। তাঁর অসামান্য প্রতিভা ও অভিনব উপস্থাপনার মাধ্যমে জাদু এক নতুন মর্যাদা লাভ করে এবং এক অনন্য শিল্পরূপে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্যদের সঙ্গে বিধাননগরের জাদুকর শ্যামল কুমার জাদুসম্রাটের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পি. সি. সরকার (জুনিয়র)-এর দুই কন্যা মানেকা সরকার ও মৌবনী সরকার। এছাড়াও ছিলেন জাদুকর বি. কুমার, দেবাশিস সাহা রায়, পঙ্কজ সরকার, সঞ্জীব সরকার সহ আরও অনেক জাদুশিল্পী ও জাদুপ্রেমীরা।
অনুষ্ঠানের শেষে জাদুকর পি. সি. সরকার (জুনিয়র) তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তাঁর পিতা জাদু সম্রাটের জীবন, কর্ম ও জাদুশিল্পে তাঁর অবদান সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেন। এইভাবেই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপিত হয়।




'আমার বাবা পি সি সরকার';
পি সি সরকার (জুনিয়র);
প্রকাশক: ব্ল্যাকলেটার্স;
প্রচ্ছদ: সাদিক হোসেন;
মুদ্রিত মূল্য: ৪০০ টাকা (INR 400.00)

সংবাদদাতা - রামানুজ চ্যাটার্জীঃ সরস্বতী পুজো ২০২৬। আয়োজক: সল্টলেক রেনেসাঁ। থিম: সন্দেশ।
"স্বদেশে পূজ্যতে রাজা, বিদ্যা সন্দেশে পূজ্যতে" - এই আপ্তবাক্যকে পাথেয় করেই সল্টলেক রেনেসাঁর এবারের নিবেদনে ছিল দারুণ চমক। আধুনিক ই-মেল বা মেসেজের যুগে আমরা ভুলেই গিয়েছি হাতে লেখা চিঠির আবেগ। মনকাড়া পূজা মণ্ডপটি সাজানো হয়েছিল একটি সুবৃহৎ ডাকবাক্সের (Postbox) আদলে, যেখানে বিদ্যার দেবী সরস্বতী আসীন।ডাকপিয়নের সেই খাকি পোশাক, হলদেটে পোস্টকার্ড, ইনল্যান্ড লেটার আর স্ট্যাম্পের নস্টালজিয়ায় ঘেরা ছিল এই পরিবেশ। পুরনো ডাকব্যবস্থার মাধ্যমে জ্ঞান ও তথ্য আদান-প্রদানের যে ধারা ছিল, তাকেই এখানে শিল্পের রূপ দেওয়া হয়েছে। কলম আর কালির সেই চিরন্তন ছোঁয়াকে সম্মান জানাতেই পূজা কমিটির ব্যতিক্রমী এই আয়োজন। এর মাধ্যমে বিশেষকরে বর্তমান প্রজন্মের কাছে হাতে লেখা চিঠির মাহাত্ম্য এবং ভারতীয় ডাকবিভাগের ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে চাওয়া হয়েছে। জ্ঞানের আলো যেন চিঠির মতোই ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়, এটাই ছিল সল্টলেক রেনেসাঁর এবারের একমাত্র প্রার্থনা।
করুণাময়ী আবাসনে এই পুজো বহু লোকের দৃষ্টি আকর্ষন করেছিল। মন্ডপে রাখা লেটার বক্সে আবাসিকদের অসংখ্য চিঠি জমা পড়েছিল। পূজা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেরা তিন চিঠিকে নির্বাচন করা হবে এবং সেই চিঠিগুলিকে আসন্ন প্রকাশিত কিশোর পত্রিকায় প্রকাশিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে দমকল ও জরুরি পরিষেবা মন্ত্রী সুজিত বসু মন্ডপ দেখে অভিভূত হয়ে যান এবং যাওয়ার সময় "রাণার রাণার" গানটি গাইতে গাইতে চলে যান। চমক এতটাই ছিল যে, নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী নির্বিশেষে শতাধিক মানুষ চিঠি লিখে মন্ডপে রাখা চিঠির বাক্স গুলিকে চিঠিতে ভরিয়ে দিয়েছিল।
করুণাময়ীর আবাসিকরা অপেক্ষায় দিন গুনছে সল্টলেক রেনেসাঁ আগামী বছরে না জানি কোন থিম নিয়ে তাদের আবার ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।





