গল্প/অণুগল্প/উপন্যাস

লাইন



অচিন্ত্য সাহা


পচা ডিমের গন্ধ বাতাসে ভাসছে। মানুষগুলো নাকে রুমাল চাপা দিয়ে এগিয়ে চলেছে আপন আপন খেয়ালে, কারও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। ফুটপাতের ওপর সারি সারি খাবারের দোকান। গন্ধটা সম্ভবত সেখান থেকেই বেরিয়ে আসছে। হাসপাতাল গেটের দু'ধারে মানুষ গিজগিজ করছে। ওদিকে পাঁচ টাকার ডিম ভাত খাওয়ার লাইনে রীতিমতো রক্তারক্তি কাণ্ড। কুপন ফুরিয়ে গেছে, সারিবদ্ধ মানুষগুলো শুকনো মুখে দাঁড়িয়ে আছে। দুই একজন চিৎকার করে বলছে - "এত তাড়াতাড়ি কুপন শেষ হলো কেন? লাইনে তো মাত্র ক'টা লোক। কুপনে ডিম ভাত পেয়েছে পঞ্চাশ জনও হবে না। অন্তত শ'পাঁচেক লোকের জন্য কুপনের ব্যবস্থা রাখা উচিত ছিল।"

কিন্তু এতগুলো মানুষকে অতিক্রম করে তাদের কণ্ঠস্বর 'ডিম ভাত' কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের কানে পৌঁছচ্ছে না বা পৌঁছলেও ওঁরা এইসব হাড়হাভাতে মানুষগুলোর কথায় কর্ণপাত করছে না।

গত রাতের ট্রেনযাত্রার ক্লান্তি এবং সারাদিনের খাটাখাটুনির ধকলটা চোখে মুখে ফুটে উঠেছে রমজানির। কলকাতার বুকে বসে এমন সব দৃশ্য দেখতে হবে সেটা সে কোনোদিন ভাবেনি। বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে আকাশ-পাতাল ভাবনা ওর মনে জড়ো হতে লাগলো -

বেশ ক'দিন ধরে বাচ্চাটা ভুগছে, মাঝে মধ্যে জ্বর আসছে, তার সাথে সর্দি-কাশি এবং খিঁচুনি। পাড়ার হাতুড়ে ডাক্তার বিনোদকাকাকে দেখানো হচ্ছিল কিন্তু তিনি নিজের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা অনুমান করতে পেরে ওদেরকে বলেছিল - "রমজানি, তুই তোর ছেলেকে নিয়ে এইবেলা কলকেতা চলে যা। পিজি হাসপাতালে ভালো ভালো ডাক্তারবাবু আছেন। ওখানে গেলে তোর সমস্যার সুরাহা হতে পারে।"

- তুমি ঠিক বলছো তো কাকা?

- হ্যাঁ রে, এর আগে আমি বেশ ক'জনকে পাঠিয়েছি। ওরা সবাই ভালো আছে। রাতের ট্রেন ধরে চলে যা, ভোরের আলো ফোটার আগেই পৌঁছে যাবি। তাছাড়া ওখানে অনেক বড়ো লাইন দিতে হয়।

সকাল সকাল কলকাতা নেমে রমজানি একটু অবাক হয়ে গিয়েছিল। আগে ওর কর্তা মকবুলের সাথে এসেছিল তখন এই কলকাতার চেহারা ছিল অন্যরকম। বাসগুলোতে মানুষ বাদুড় ঝোলার মতো ঝুলছিল, হলুদ রঙের ট্যাক্সিগুলোর উৎপাত, ফুটপাতে গাদাগাদি ভিড় - সব মিলিয়ে কলকাতার চেহারা ছিল তাড়া খাওয়া মুরগির মতো। এখন মনে হচ্ছে মুরগিটা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। ফাঁকা রাস্তা ধরে দুই-একটা ট্যাক্সি, বাস, হাতে টানা রিকশা এগিয়ে চলেছে। খালি ফুটপাতে কয়েকটা কুকুর আর ভিখারি কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে আছে। ফ্লাইওভারের নীচের রাস্তা ধরে সোজা এন. আর. এস. মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এসে বাস ধরে সোজা পি. জি. হাসপাতালের কাছে এসে নেমেছিল।

রমজানির ছেলের বয়স সবেমাত্র চার বছর। ছেলের বাপ মকবুল ইন্দোনেশিয়ায় একটা হোটেলে কাজ করে। মোটা মাইনে পায়। প্রতি মাসে নিয়ম করে টাকাও পাঠায়। গতরাতে ফোনে মকবুলকে সবকিছু জানিয়েছে রমজানি। মকবুলের ছোটো ভাই আকিবুলকে সাথে নিয়ে সে যখন হাসপাতালের মেইন গেটের সামনে এলো তখন দেখতে পেল - এখানে মানুষ নয়, যেন একটা জনসমুদ্র। সবেমাত্র সূর্যদেব পুব আকাশে উঁকি দিচ্ছে। তার মধ্যে এত লোকের লাইন! আকিবুলকে বললো - "ভাইয়া, তুমি একটু শুধিয়ে এসো বাচ্চাদের টিকিট কোথায় দেয়।"

আকিবুল ঘাড় নেড়ে টিকিট কাউন্টারের দিকে এগিয়ে গেল। ওকে ওভাবে এগুতে দেখে দুই-একজন রে রে করে তেড়ে উঠলো। আকিবুল শান্ত স্বরে বললো - "ভাইসাব, আমি লাইন ভাঙতে আসিনি। শুধু জিজ্ঞেস করতে এসেছি বাচ্চাদের টিকিট কোথায় দেওয়া হবে। আপনারা কেউ কি জানেন? তাহলে বলুন, আমার জবাব পেলেই আমি চলে যাবো।"

সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো পরস্পর পরস্পরের মুখের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায়। এঁরা কেউই স্থানীয় বাসিন্দা নন, বেশিরভাগই দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ। নিজেরাও ঠিকঠাক জানেননা যে, তাঁরা সঠিক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন কিনা। অথচ দাঁড়িয়ে আছেন। সামনে পিছনে একে অপরকে জিজ্ঞেস করে দাঁড়িয়ে পড়েছেন।

- আপনারা কেউ জানেন না তো? তাহলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকুন, আমাকে আমার কাজ করতে দিন।

আকিবুল কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যায়। কর্তব্যরত অফিসারকে জিজ্ঞেস করে - "স্যার, বাচ্চাদের টিকিট কোথায় দেওয়া হয়?"

কম্পিউটারে টিকিট এন্ট্রি করতে করতে মুখ না তুলেই তিনি বলেন - "কী সমস্যা? মানে বাচ্চার কী হয়েছে?"

- জ্বর, সর্দি-কাশি, খিঁচুনি...

- আচ্ছা। সোজা চলে যাও। পুকুরের পাশের সাদা বড়ো বাড়িতে। ওখানে টিকিট করো, বাকিটা ওঁরা বলে দেবেন।

- ধন্যবাদ স্যার।

আকিবুল ওর ভাবি রমজানির কাছে ফিরে আসে।

- চলো ভাবি। ওই সাদা বাড়ির নীচে যেতে হবে। ওখানেই টিকিট দেবে। অনেক দেরি হয়ে গেছে। এতক্ষণে লাইন অনেক দূরে চলে গেছে।

ছেলেকে কোলে নিয়ে রমজানি আকিবুলকে অনুসরণ করে। সাদা বাড়ির নীচে এসে ওদের বিস্ময়ের ঘোর কাটতে চায় না - ওরেব্বাস, এতবড় লাইন!

তিনটি কাউন্টার থেকে সকাল ন'টায় টিকিট দেওয়া শুরু হবে। এতবড় লাইন দেখে রমজানির মাথা ঘুরে গেল। মনে মনে ভাবতে লাগলো - এই লাইন ঠেলে টিকিট পেতে দুপুর দুটো বাজবে। তারপর ডাক্তারবাবুর কাছে পৌঁছতে - হ্যাঁ, চারটে তো বাজবেই। কাল সারারাত ঘুম হয়নি। মনে হচ্ছে আজও তাই হবে। বাচ্চাকে কিছু খাওয়ানো দরকার।

আকিবুলকে কাছে ডেকে নিয়ে বলে - "ভাইয়া, আমি লাইনে দাঁড়াচ্ছি। তুমি দেখ তো আশেপাশে কোথাও খাবারের দোকান আছে কী না।"

আকিবুল বলে - "ভাবি, তুমি দাঁড়াও, আমি খোঁজ নিয়ে আসছি।"

লাইনে দাঁড়ানো এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেন - "তোমরা কোথা থেকে আসছো?"

- কেন কাকা, কিছু দরকার?

- বলছিলাম, ওই বড়ো গেটের ডানদিকে অনেকগুলো দোকান আছে। আর একটু এগোলেই ডিম ভাতের কুপন দেওয়ার লাইন। লাইনে অনেক লোক দাঁড়িয়ে কিন্তু বাবুরা এখনো আসেনি। দশটার দিকে আসবে। প্রতি কুপনের জন্য পাঁচ টাকা নেবে। ওখানে আশেপাশেই প্রচুর খাবারের দোকান আছে। এত সকালে চা-বিস্কুট ছাড়া কিছু পাবে না।

আকিবুল একটু বিরক্ত হয়ে বলে - "সে আমি দেখে নিচ্ছি কাকা, কিন্তু তুমি..."

- আমি... মানে অনেক রাতে এসেছি তো। তাই যখন চা-বিস্কুট আনবে আমার জন্য একটু এনো, এ-ই আর কি।

- ঠিক আছে। তোমার জন্যও আনবো।

বেশ কিছুক্ষণ পর আকিবুল একটা ক্যারিব্যাগে এক হাতে গোটা চারেক পাঁউরুটি, বিস্কুট, মাটির ভাড় এবং অন্য হাতে একটা প্লাস্টিকের গ্লাসে ভর্তি করে চা নিয়ে আসে। বাড়িতে চায়ের ব্যবস্থা আছে। চায়ের প্রতি আকিবুলের খুব একটা আসক্তি নেই। বাইরে এলে বন্ধু বান্ধবের সাথে দুই এক কাপ চা খায়। আজ একটু খেতে হবে, কিছু করার নেই। ক্যারিব্যাগটা রমজানির হাতে দিয়ে এক এক করে তিনটে ভাড়ে চা ভর্তি করে। এক কাপ চা, একটা রুটি এবং বিস্কুট লাইনের কাকাকে দেয়। তারপর ওরা খায়। একটা বিস্কুট চা'য়ে ডুবিয়ে বাচ্চাকে খেতে দেয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই কাশির দমকে সে বমি করে দেয়।

টিকিট দেওয়া শুরু হলে লাইনে হুড়োহুড়ি লেগে যায়। কে একজন অবৈধভাবে লাইনে ঢুকে পড়েছিল তাই নিয়ে গোলযোগ। দুই-চার বার কথা কাটাকাটি হতে হতে হঠাৎ করে তুমুল বচসা এবং অবশেষে রক্তারক্তি কাণ্ড। সময়মতো পুলিশ ইন্সপেক্টর না এসে পড়লে হয়তো খুনোখুনি লেগে যেত। যাঁরা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল তাদেরকে সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড় করিয়ে সেখানে দু'জন প্রহরী মোতায়েন করে ইন্সপেক্টর চলে গেলে কাউন্টার থেকে টিকিট দেওয়া শুরু হলো।

তিনটি কাউন্টার থেকে টানা দু'ঘন্টা টিকিট দেওয়ার পরও রমজানির সামনে এখনো অনেক বড়ো লাইন। এখনো ঘন্টা দুয়েক লাগবে। ডাক্তারবাবু কখন আসবেন তার কোনো ঠিক নেই। লাইনে দাঁড়ানো লোকের মুখ থেকে শুনতে পেল - ডাক্তারবাবু মোটামুটি ন'টার পরপরই চলে আসেন। বাচ্চাদের দেখতে একটু বেশি সময় লাগে। অধৈর্য হলে চলবে না। দশটার দিকে আকিবুলকে ডিম ভাতের কুপন আনতে পাঠিয়ে দেয়।

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে দুটো বাজতে দশ মিনিট বাকি। এইমাত্র টিকিট হাতে নিয়ে রমজানি দেখলো একাত্তর নম্বরে ওদের এন্ট্রি হয়েছে। ডাক্তার ভিজিটিং-এর আগে দুটো ভাত খেয়ে নিলে ভালো হতো। আকিবুল এখনো আসেনি।

টিকিটের লাইনে আর বেশি লোক নেই। আর মিনিট দশেকের মধ্যে টিকিট দেওয়া শেষ হয়ে যাবে। রমজানি তখনও ভাবছে - ভাইয়া গেল কোথায়! প্রায় ঘন্টা দুয়েক হয়ে গেল। একটু এগিয়ে দেখবো নাকি?

মুখের কথা শেষ না হতেই দেখতে পেল সাইরেন বাজিয়ে দু'দুটো অ্যাম্বুলেন্স এগিয়ে আসছে। তার পিছনে স্ট্রেচার হাতে তিন-চারজন স্বাস্থ্যকর্মী ছুটে আসছে। কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ার দৌড়ে এসে রাস্তা ফাঁকা করে গাড়ি যাওয়ার জায়গা করে দেয়। পরপর দু'টো অ্যাম্বুলেন্স দেখে উপস্থিত লোকগুলো অবাক হয়ে নিজেদের মধ্যে কানাঘুষো শুরু করে। ঠিক কী ঘটেছে জানার জন্য কেউ কেউ কৌতূহলী দৃষ্টি দিয়ে এদিক ওদিক তাকায়। হাসপাতালের মেইন গেটের পাশে বসে একটি মেয়ে কাগজের ঠোঙা থেকে কী যেন মুখে পুরছিল। সিভিক ভলান্টিয়ার দৌড়ে এসে তাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয়। মেয়েটির হাত থেকে খাবারের ঠোঙা ছিটকে বেশ খানিকটা দূরে গিয়ে পড়ে। ক্ষুধার্ত মেয়েটি রাস্তা থেকে ছিটকে পড়া খাবার কুড়োতে থাকে। কয়েকজন যুবক দৌড়ে এসে জানায় - ডিম ভাতের লাইনে কুপন দেওয়া নিয়ে ঝামেলা শুরু হয়। তর্কাতর্কি থেকে হাতাহাতি অবশেষে মারপিট। তাতেই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে খুব বেশি আঘাত কারোরই লাগেনি। কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

অজানা আশঙ্কায় রমজানির বুকটা কেঁপে ওঠে - ভাইয়া তো ওখানেই ছিল। ওর কিছু হয়নি তো?

ছেলেটাকে কোলে নিয়ে এগিয়ে যায়। মেইন গেট পেরিয়ে দেখতে পায় - পুরো রাস্তা জুড়ে ভাত তরকারি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। দুই একজন রোগী হাসপাতাল গেটের কাছে জড়ো হয়ে আছে। পরস্পর পরস্পরের সাথে কীসব আলোচনা করছে। সেদিকে নজর না দিয়ে রমজানি এগিয়ে একজন পুলিশ অফিসারকে জিজ্ঞেস করে - "স্যার, আমার ভাইয়া এখানে ছিল কিন্তু এখন কোথায় আছে ঠিক বুঝতে পারছি না। দয়া করে একটু খোঁজ দিতে পারেন?"

পুলিশ অফিসার বললেন - "আজকের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। সামনের গলিতে ওদের প্রাথমিক চিকিৎসা চলছে। ওখানে গিয়ে দেখতে পারো।"

রমজানি এগিয়ে গেল। রাস্তার উপরে কয়েকটি চেয়ার টেনে তার উপর বসিয়ে দশ-বারোজন নার্স আহত লোকজনের চিকিৎসা করছেন। রমজানি দেখতে পেল ওদের মধ্যে আকিবুল বসে আছে। ওর মাথায় ব্যাণ্ডেজ় বাঁধা।

- ভাইয়া কী হয়েছে তোমার? কীভাবে লাগলো?

- কিছু চিন্তা কোরো না ভাবি। সামান্য একটু চোট লেগেছে। ব্যাণ্ডেজ় করা হয়েছে। ঠিক হয়ে যাবে।

রমজানি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়,

- খুব ব্যথা করছে? বেশি লাগেনি তো?

- না না, খুব বেশি লাগেনি। আমার এই চোট লাগার কথাও নয়। পিছন থেকে কে একজন এসে একটা লোহার রড দিয়ে আমার পেছনে থাকা এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে মারতে যাচ্ছিল। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আমি চোট পেলাম।

- এখন ঠিক আছো তো? কষ্ট হচ্ছে?

- হ্যাঁ, ঠিক আছি। দেখি নার্স দিদি কী বলে।

আকিবুল এগিয়ে নার্স দিদিকে জিজ্ঞেস করে - "দিদি, এখন কি যেতে পারি?"

- ব্যথা করছে না তো, মাথা ঘুরছে?

- না দিদি, সব ঠিক আছে।

- বেশ, তাহলে যেতে পারো।

এখানে দু'একটা চায়ের দোকান খোলা আছে। বাকি সব বন্ধ। একটা চায়ের দোকানের সামনে গিয়ে পাউরুটি আর ঘুগনি নিয়ে ওরা হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে যায়। লিফটে চেপে চারতলায় পেডিয়াট্রিক ডিপার্টমেন্টের সামনে বসার জায়গায় গিয়ে ওরা বসে। এখানেও মস্ত বড়ো লাইন। এই লাইন ঠেলে ডাক্তারের কাছে পৌঁছতে চারটে বাজবে। ততক্ষণে কিছু খেয়ে নেওয়া যাক।

পাউরুটি আর ঘুগনি মুখে দিয়ে রমজানি ভাবে - ছোটবেলা থেকে সর্বত্র লাইন ঠেলেই ওকে যেতে হচ্ছে। বাকি জীবনটাও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। লাইন আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এ থেকে মুক্তি নেই। লাইনের ওপর দিয়ে যেমন দৈত্যের মতো রেলগাড়ি নিশ্চিন্তে নির্ভয়ে ছুটে আসে, আমাদেরকে তেমনই একটি গভীর জীবনরেখা ধরে ছুটতে হবে। তার মধ্যে আঘাত, প্রত্যাঘাত, প্রতিবন্ধকতা আসবে। সবটাকে হাসিমুখে মেনে নিয়েই আমাদের এগিয়ে চলতে হবে - এটাই জীবন!